চাকরি পেতে যে সকল দক্ষতা থাকা আবশ্যক!

চাকরি পেতে যে সকল দক্ষতা থাকা আবশ্যক!

চাকরি একটা অতুলনীয় সম্পদ। চাকরি পেলেই জীবনের চাকা ঘুরে হাজার হাজার বেকার যুবকদের। যদি চাকরি না থাকে, তাহলে জীবনের সবকিছু অন্ধকার মনে হয়। চাকরির বাজারে চাকরির মান বাড়ছে প্রতিনিয়ত। তৈরি হচ্ছে লক্ষ্য জন প্রতিযোগি। প্রতিযোগিতায় নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য অনেকগুলো দক্ষতা ও কৌশল অনুসরণ করা প্রয়োজন। প্রতিযোগিতায় নিজেকে প্রমাণ করে চাকরি পেতে হলে, দিতে হবে নিজের যোগ্যতার পরিচয়। এজন্য জানতে হবে কিভাবে দিতে হবে নিজের যোগ্যতার পরিচয়? প্রতিনিয়ত যত চাকরির প্রতিযোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই অনুপাতে ১০% ও কর্মস্থান বৃদ্ধি পাচ্ছে না।

মূলত বাংলাদেশে কর্মস্থানের তুলনায় চাকরির প্রার্থীর সংখ্যা ৯০% বেশি। প্রতি একটা চাকরির আসনের জন্য প্রায় ৯০ জন প্রতিযোগি প্রতিযোগিতা করে। এদের সাথে প্রতিযোগিতা করে আপনাকে প্রমাণ করতে হবে। এদের সবার মধ্যে একমাত্র আপনিই উক্ত চাকরিটি পাওয়ার যোগ্য। তাহলে আজকের আর্টিকেলে জেনে নেওয়া যাক। কিভাবে চাকরির জন্য নিজেকে অন্যদের থেকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রমাণ করবেন? এই বিষয়ে অনেকগুলো কৌশল সম্পর্কে।

যোগ্যতা প্রমাণে কি দক্ষতা প্রয়োজন বেশি?

আপনার যোগ্যতা প্রমাণের জন্য বাস্তবিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান চাই, তাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য সবচেয়ে দক্ষ কর্মীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য। এজন্য চাকরি পেতে হলে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে সবচেয়ে দক্ষ কর্মী হিসেবে। লিখাটি পরিপূর্ণ পড়ার পর আপনি জানতে পারবেন। নিজেকে সবচেয়ে দক্ষ হিসেবে পরিচিত করার জন্য আপনার যে সকল বিষয় সম্পর্কে পূর্বে থেকে দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন এই বিষয় সর্ম্পকে। আর্টিকেলটি পড়ার পর অবশ্যই আপনার মতামত জানাতে ভুলবেননা। আর্টিকেলটি আপনার কেমন লেগেছে? 

চলুন ২০২১ সালে চাকরি পেতে হলে, যে সকল দক্ষতা থাকা আবশ্যক তা জেনে নিই।

আপনি যদি সত্যিই একটি চাকরি পেতে চান, তাহলে যে সকল দক্ষতা আপনার প্রয়োজন এ বিষয়ে সম্পর্কে এখান থেকে সঠিকভাবে জানতে পারবেন। বর্তমান সময়ে একটি চাকরি পাওয়ার জন্য শুধুমাত্র সার্টিফিকেট যোগ্যতা যথেষ্ট নয়। সার্টিফিকেট এর পাশাপাশি নিজেকে কারিগরি দিক থেকে এগিয়ে রাখতে হবে। তাহলে প্রতিযোগিতায় নিজেকে টিকিয়ে রাখা যাবে। টেকনিকেল অনেকগুলো কাজ রয়েছে। যে সকল পার্টগুলো আপনার আয়ত্তে না থাকলে আপনি সবসময় অন্যদের থেকে পিছিয়ে থাকবেন। 

তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞান:

একটি প্রতিষ্ঠানকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিতে তথ্য প্রযুক্তির ভূমিকা অপরিসীম। তথ্য প্রযুক্তিকে অবহেলা করে কোন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আপনি যদি একটু লক্ষ্য করে দেখেন, বর্তমানে যে সকল প্রতিষ্ঠান তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে এগিয়ে আছে। মূলত তারাই অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে সব দিক থেকে এগিয়ে আছে। বর্তমান সরকার তথ্য-প্রযুক্তির দিকে অনেক বেশি মনোযোগী রয়েছে। এমনকি অনেকগুলো বড় বড় প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করার জন্য সরকার অনেক টাকা বিনিয়োগ করে যাচ্ছেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে অবগত করার জন্য। প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট যোগ্যতার পাশাপাশি বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যোগ্যতা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

 গুগলের মতো বিশ্বসেরা টেকনোলজি কোম্পানিগুলো সার্টিফিকেটের দক্ষতাকে কোন মূল্যায়ন করেনা। তারা সব সময় আপনার টেকনিক্যাল জ্ঞানকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। আক্তার জুলি প্রযুক্তি বিষয়ে ভালো জ্ঞান থাকে তাহলে আপনি বিশ্বসেরা টেকনোলজি কোম্পানি গুগলে চাকরির জন্য আবেদন করার যোগ্য প্রার্থী। গুগলে চাকরি করার জন্য পাঠ্যপুস্তক বিষয়ে সাধারণ দক্ষতা থাকলেই যথেষ্ট। 

চাকরি পেতে কেন তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞান প্রয়োজন?

এটা খুবই সহজ একটা উত্তর। যে কোন প্রতিষ্ঠান চাই শ্রম ও সময় কম ব্যয় করে বেশি বিক্রয় করতে। আর এটা সম্ভব শুধুমাত্র তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে। যত প্রযুক্তির উন্নত ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে, একটি প্রতিষ্ঠান নিশ্চিতভাবে তত দ্রুত তাদের লক্ষ্য পৌঁছাতে পারবে। কেননা তথ্য প্রযুক্তি মানুষকে এমনভাবে আকৃষ্ট করেছে। মনে হয় না এটি ছাড়া মানুষ ভবিষ্যতে চলতে পারবে। এটাকে জীবন থেকে বাদ দেওয়া অসম্ভব একটা বিষয় হবে।

এজন্য চাকরি পেতে হলে ২০২১ সালে আপনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞান। এটা বলতে পারেন বাধ্যতামূলক। এজন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মূলত আইসিটি শিক্ষা আবশ্যক করা হয়েছে।

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড জানতে হবে:

আমি যদি বলি, তাহলে এভাবে বলতে চাই। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড রাখতে হবে হাতের আঙ্গুলের মাথায়। এই গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যারটির কাজ করতে হাত যত দ্রুত চলবে প্রতিষ্টানে আপনার চাহিদাও তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান সময়ে এমন কোন প্রতিষ্ঠান নাই যেখানে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর ব্যবহার হয় না। প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিজেদের হিসাবগুলো সংরক্ষণ করা ও প্রেজেন্টেশন তৈরি করার জন্য। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অবশ্যই প্রফেশনাল ও ডিজিটাল প্রেজেন্টেশন তৈরি করার জন্য মাইক্রোসফট ওয়ার্ড নয়।  বরং আপনাকে মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্টের কাজ জানতে হবে। 

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড দিয়ে কি হবে?

আপনি যদি এর আগে কখনও মাইক্রোসফট ওয়ার্ড নিয়ে কাজ না করে থাকেন, তাহলে আপনি এমন প্রশ্ন করবেন। তবে ভুলেও চাকরির জন্য আবেদন করার পর এটা জানতে চাইবেন না। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড দিয়ে কি হবে। বর্তমানে কর্ম ক্ষেত্রে পাশের জনকে কোন কথা বলার সময়ও মুখের পরিবর্তে মেসেজ ব্যবহার তরা হয়।

কেননা, মুখে কোন কথা বলতে গেলে আপনার একজনের জন্য অফিসের আরও ১০ জন কর্মীর কাজে সমস্যা হতে পারে। শব্দ দূষণ এড়াতে মূলত মেসেজিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। আর যেকোনো মেসেজ আপনি তখনই দ্রুত টাইপ করতে পারবেন, যখন আপনার মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের জ্ঞান থাকবে।

পাওয়ার পয়েন্ট এর ব্যবহার:

পাওয়ার পয়েন্টের ব্যবহার জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানের যেকোনো প্রোগ্রামের মূলবিষয় বস্তু কর্মীদের সামনে সহজে উপস্থাপন করার জন্য পাওয়ার পয়েন্ট এর ব্যবহার জানতে হবে। নতুন কোন আইডিয়া বা প্ল্যান কার্যকর করার সম্পূর্ণ দিকনির্দেশনা আপনি পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে সবার কাছে উপস্থাপন করতে পারবেন বাস্তব রূপ দিয়ে।

এক্সেল এর ব্যবহারে হিসেবে হবে সহজ:

যেকোনো জটিল হিসাবের ক্যালকুলেশন করতে পারবেন মূহুর্তের মধ্যে। এক্সেলের মাধ্যমে একাধিক জটিল হিসাব কম সময়ে করা সম্ভব হয়। আপনি যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন না কেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক হিসাব ও অন্যান্য ক্যালকুলেশনের হিসাব থাকবেই। ব্যাংক বা অর্থনৈতিক লেনদেন সংক্রান্ত পদে চাকরি পেতে হলে এক্সেলের ব্যবহার জানতে হবে।

সোস্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট দক্ষতা :

সোস্যাল মিডিয়া শুধুমাত্র লাইক কমেন্ট করার অবস্থানে নেই। যারা এখনও সোস্যাল মিডিয়াতে মেসেজ লাইক কমেন্ট করতে আসে, তাদের কে অকর্মের ঢেকি বলা হয়। তারা এই কাজ ছাড়া আরকিছু জানেনা। সোস্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট বলতে লাইক কমেন্ট করা নয়। বর্তমানে ব্যবসার প্রচারণা করার জন্য ৪০-৪৫ অংশ জায়গা দকল করেছে সোস্যাল মিডিয়া। চাকরিতে নিজেকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে জানতে হবে সোস্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট।

চাকরি পেতে যে দক্ষতা থাকা আবশ্যক!
চাকরি পেতে যে দক্ষতা থাকা আবশ্যক!

বর্তমানে অনেকগুলো আইটি প্রতিষ্ঠান সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। আপনি চাইলে আপনার পরিচিত যে কোন আইডি সেন্টার থেকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ম্যানেজমেন্ট হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন। সাধারণত এক থেকে ছয় মাসের মতো সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেন এ বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠতে পারবেন। এমন একটি আইটি প্রতিষ্ঠান থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট ও সোশল মেডিয়া মারকেটিং হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারেন। যারা প্রশিক্ষণ শেষে আপনাকে একটি সার্টিফিকেট প্রদান করবেন। 

সরকার ইতিমধ্যে একটি কোর্স চালু করেছে সম্পুর্ন ফ্রী তে যে কোর্সটি ডিজিটাল মার্কেটিং নামে পরিচিত। সরকারি একুশটি করলে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে জানার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং সম্পর্কে এক্সপার্ট হয়ে উঠতে পারবেন। এটি করার জন্য আপনাকে প্রাথমিকভাবে আবেদন করতে হবে।  আপনার সিডিউল অনুযায়ী আপনাকে কোর্স করার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হবে। 

আশা করছি 2021 সালে চাকরি পাওয়ার জন্য যে সকল টিপস অন্ড ট্রিক্স রয়েছে এ বিষয়ে আপনার এখান থেকে ভালো জানতে পেরেছেন। লিখাটি যদি আপনি সম্পূর্ণ পড়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই আপনার ভালো লাগবে এই কৌশল গুলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *